মাহবুবুল আলম , শ্রীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে বৈসম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার পতনের দিন আইনসৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (বিজিবি) গুলিতে নিহত হন জুয়েল মিয়া। তিনি ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি দিশেহারা। দীর্ঘ ১৬ বছরের সংসারে ১২ বছরের মাথায় এক সন্তানের জনক হন তিনি । পরিবারে ছিলো আনন্দের মাতম । তবে সে আনন্দ যেনো বেশিদিন থাকলো না পরিবারটির।গতকাল শনিবার নিহত জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার স্ত্রির সঙ্গে । তিনি বলেন, আমার স্বামীর চাকুরি আর সংসার জীবন ছাড়া বাহিরে কোন জগত ছিলো না। কারখানা বন্ধ থাকায় বাজার করতে গিয়েছিলেন মাওনা চৌরাস্তা। আমার স্বামী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না। বাজার শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাওনা চৌরাস্তা পল্লি বিদ্যুৎ মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। নিহত জুয়েলের পরিবারের সাথে কথা বলার সময় তাদের পাশেই খেলা করছিলো জুয়েলের ৪ বছরের একমাত্র ছেলে মীর জুবায়ের। তবে পৃথিবীর কোন পরিবেশ বোঝার বয়সও হয়নি তার। বাবার মৃত্যু হয়েছে এটাও বুঝে না ছোট্ট শিশু জুবায়ের। তবে বাবাকে খুঁজে বেড়ায় দিক-বেদিক। জানতে চায় বাবা কোথায়। জুবেদা খাতুন তখন থাকেন নীরব। ছেলের পশ্নের কোন জবাব থাকেনা তার কাছে।
জুয়েলের উপার্জনেই চলতো সংসার ,বাবার হার্টের চিকিৎসা।
নিহত জুয়েলের বাবা মীর আব্দুল হাই নান্দাইলের গ্রামের বাড়ি থেকে ছেলের ভাড়া বাসায় এসেছেন। তিনির ছেলের মৃত্যু শোকে যেনো পাথর হয়ে গেছেন। কথা বলতে পারছিলেন না । তবুও যতটুকু বলতে পেরেছেন ততটুকুতে তিনি বলেন, ছেলের রোজগারেই আমার সংসার চলতো। আমি একজন হর্টের রেগী।ছেলের টাকা ছাড়া আমার সংসার এবং ঔষধ কিনে খাওয়ার বিকল্প কোন উপায় নেই। তিনি আরো বলেন, অঅমি কখনোই কারো ক্ষকি হবে এমন কাজ করিনি। ছেলের এই হত্যার বিচার চেয়ে অঝড় কান্নায় বেঙ্গে পড়েন তিনি। বলতে পারেননি আর কোন কথা।
সরকার পতনের দিন ছাত্র-জনতার সঙ্গে বিজিবি সংঘর্ষের ঘটনায় জুয়েলসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে, সরকার পদত্যাগের খবর পেয়ে দুটি গাড়ীতে বিজিবির অন্তত ৮০ জন সদস্য ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা তাদের গাড়ি মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় থামায় এবং বিজিবি সদস্যদের লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্টি হয় তুমুল সংঘর্ষ। মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার পর দুপুর দেড়টার দিকে সড়ক জুড়ে আহত ও নিহতদের পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর বিজিবির সদস্যদেরকেত অবরুদ্ধ করে ফেলে আন্দোলনকারীরা। এ ঘটনায় মীর জুয়েলসহ অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়।