আশিকুর রহমান সবুজ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডাঃ শফিকুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। স্থানীয় এই কৃতি সন্তান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনা দূর করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডাঃ শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই হাসপাতালের ভেতরে সক্রিয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপে হাসপাতালে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। এছাড়া দালালদের উৎপাত বন্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সক্রিয় সহায়তা চেয়েছেন। ফলে সাধারণ রোগীরা এখন হয়রানিমুক্ত পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারছেন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের মান নিয়ে অতীতে অনেক অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে ক্যাটারিং সার্ভিসের মাধ্যমে মানসম্মত গরম খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই পরিবর্তন রোগীদের দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সীমিত সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ হওয়া সত্ত্বেও ডাঃ শফিক ও তাঁর দল প্রতিদিন প্রায় ১২০০ রোগীকে বহিঃবিভাগে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ডাক্তাররা রোগীর স্বার্থে উন্নত ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন যাতে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা পায়। দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি দুদকের অভিযানকেও স্বাগত জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ডাঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শুধু একটি সেবাকেন্দ্র নয়, বরং একটি ভরসার ঠিকানায় পরিণত করতে চাই। আমি এখানে কাজ করতে এসেছি, কোনো সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দিতে নয়। চিকিৎসক ও ওষুধের ঘাটতি থাকলেও আমাদের সীমিত সম্পদ নিয়ে ১২০০ রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
উপজেলার টেংরা গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম (৫০) বলেন, “আগে সিরিয়াল পেতে দালাল ধরা লাগতো, এখন সব গোছানো। ডাক্তাররা অনেক ভালো করে সময় নিয়ে ব্যবস্থাপত্র লিখছেন।” তেলিহাটির ফরিদা বেগম জানান, বর্তমানে হাসপাতালের কর্মচারীরা অনেক বিনয়ী এবং খাবারের মানও আগের চেয়ে অনেক উন্নত।
ডাঃ শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অচিরেই জেলার অন্যতম সেরা জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে স্থানীয়রা আশা ব্যক্ত করেছেন।