মোঃ রাকিব হোসেন
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি Saudi Aramco-এর স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলাটি ইসরায়েলের একটি পরিকল্পিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত গোপন অভিযান বলে দাবি করেছে ইরান। ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম Tasnim News এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের রাজধানী Riyadh-এ অবস্থিত আরামকো স্থাপনায় এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক দেশগুলোকে বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের দায় অন্যদিকে ঠেলে দেওয়া। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত আরামকোর কোনো স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেনি।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, দেশটি আগেই ঘোষণা করেছে—এই অঞ্চলে অবস্থিত সব আমেরিকান ও ইসরায়েলি সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং ইতোমধ্যে একাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। তবে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এখনো ইরানের হামলার আওতায় পড়েনি।
ইরানের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের Fujairah Port ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে ইসরায়েল এই বন্দরেও হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের আরামকোর একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম The Times of Israel সোমবার (২ মার্চ) এমন একটি প্রতিবেদনে জানায়, হামলার সময় সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও তা সীমিত ছিল এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, Ras Tanura Refinery সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে অবস্থিত এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার। এই ধরনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ কৌশল হলো এমন এক ধরনের গোপন সামরিক বা নাশকতামূলক অভিযান, যেখানে প্রকৃত হামলাকারী নিজেকে আড়াল রেখে অন্য কোনো পক্ষের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে। এর মূল লক্ষ্য হলো জনমত বিভ্রান্ত করা, রাজনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপের জন্য অজুহাত তৈরি করা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা উসকে দেওয়া।