মোঃ রাকিব হোসেন সৌদি আরব
সচ্ছল জীবনের স্বপ্নে সৌদি আরব এসেছিলেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার গড়বাড়ী গ্রামের হাসিম উদ্দিন (৪৪)। পরিবারকে দারিদ্র্যের কষ্ট থেকে মুক্ত করতে গত ২২ জুন জেদ্দায় আল তেজারত কোম্পানির সিটি ক্লিনারের কাজে যোগ দেন তিনি। পরিবারে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কর্মজীবনও ভালোই চলছিল তার। তবে, গত ২৪ নভেম্বর সকালে হঠাৎ করেই সবকিছু বদলে যায়।
কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় এক চোরকে লক্ষ্য করে সৌদি আরবের পুলিশ গুলি ছোড়ে। ভুলবশত একটি গুলি লাগে দাঁড়িয়ে থাকা হাসিমের শরীরে। আহত হাসিমকে সহকর্মীরা হাসপাতালে নিলেও বাঁচাতে পারেননি। তার মৃত্যু সংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সৌদি আরব থেকে হাসিমের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাছলিমা বেগম বলেন, “রাতে স্বাভাবিকভাবেই ওর সঙ্গে কথা হয়েছিল। কে জানত সকালে এমন খবর শুনতে হবে। সহকর্মী আলতাফ ফোন করে বলল—‘আপারে, ভাই ভুল গুলিতে আহত হয়েছে।’ পরে জানলাম, আর তিনি নেই।”
হাসিমের মেয়ে স্মৃতি আক্তার বলেন, “বাবার লাশ দেশে আনার জন্য নানা জায়গায় যোগাযোগ করছি। শুধু চাই, বাবাকে যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।”
পাড়ার বাসিন্দা শাহীন মিয়া বলেন, “হাসিম ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে পুরো গ্রাম স্তব্ধ। তিনি কারো সঙ্গে কখনো খারাপ ব্যবহার করেননি। সবাইকে সম্মান করতেন। এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।”
প্রতিবেশী মনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাচ্চাগুলো বাবা হারা হলো। হাসিম মানুষটা ছিল অত্যন্ত শান্ত-ভদ্র। বাড়িতে আসলে সবার খোঁজ নিত। এখন শুধু তার লাশ আসার অপেক্ষা।”
গ্রামের যুবক জাহিদ হাসান বলেন, “যে মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদেশে গিয়ে পরিশ্রম করছিলেন, তিনি এভাবে পুলিশের গুলিতে মারা গেলেন। এটা খুবই দুঃখজনক, আমরা তদন্ত চাই।”
শিবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি, সৌদি আরব থেকে সংবাদকর্মীরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তিনি বিষয়টি উপরমহল কে জানান যেনো দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসিমের লাশ দেশে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।