শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
একসময়ের দেশজুড়ে আলোচিত ও সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘কাকলী ফার্নিচার’ আজ দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে। স্বজনদের সীমাহীন প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও হিসাব গোপনের অভিযোগে নিজের তিল তিল করে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে এবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন এর চেয়ারম্যান এস এম সোহেল রানা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় কাকলী ফার্নিচার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্য পাঠকালে একপর্যায়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এস এম সোহেল রানা অভিযোগ করেন, তার বোন জামাই আমান উল্লাহ (৪০) এবং বোন কাকলী আমান (৩৫) পারিবারিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন।ব্যবসার উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা ৬টি জমির কোনো স্বচ্ছ হিসাব বা দলিলাদি বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি প্রাইভেটকার জোরপূর্বক ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন অভিযুক্তরা।২০১৬ সাল থেকে যৌথ মালিকানাধীন একটি ফাউন্ডেশন বাড়ি এককভাবে দখল করে বসবাস ও গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চেয়ারম্যান জানান, সঠিক হিসাব না থাকায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নামে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ এবং ১ কোটি টাকা পাওনাদারের দায় সৃষ্টি হয়েছে। পাওনা টাকার হিসাব চাইলে তাকে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি আমান উল্লাহর বাবা জালাল উদ্দিন ফরাজি তাকে বেতের লাঠি দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
২০০০ সালে মরহুম আবুল কাশেমের হাত ধরে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি ‘দামে কম, মানে ভালো’ স্লোগানে করোনাকালে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়েছিল। সেই সোনালী দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সোহেল রানা বলেন, “পারিবারিক বিশ্বাসই আজ আমার ও আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোহেল রানা দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। তিনি তার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানের অধিকার ফিরে পেতে এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে এই দাবির প্রতি মৌন সমর্থন জানান।