সোহেল মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ
প্রায় ১৪ বছর আগে দোয়ারাবাজার উপজেলার বগুলাবাজার ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের আব্দুছ সাত্তারের ছেলে ফারুক মিয়ার সাথে বিলকিস আক্তারের বিয়ে হয়।বছর খানেক পর বিলকিসের গর্ভে জন্ম নেন হাসান। তার জন্মের পর পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর বাড়ি ছাড়তে বাধ্যহন বিলকিস আক্তার। প্রায় ১২ বছর স্বামী স্ত্রীর মঝে সম্পর্ক না থাকলে ও হাসান ও তার বাবার সম্পর্কে ছিলো মধুর।হাসান থাকতো তার মায়ের সাথে নানা বাড়ি কুমিল্লায়। মাঝে মধ্যে এসে মাস-দু’য়েক থেকে যেতো বাবার বাড়িতে। এভাবেই চলছিলো হাসানের জীবন।কিন্তু একবছর আগে বিদেশে পারি জমান হাসানের পিতা ফারুক মিয়া। একদিকে যেমন দেশ ছেড়ে বিদেশে ফারুক মিয়া,অন্যদিকে বিদেশে যেতে না যেতেই পাল্টে যায় তার রুপ। অশ্বিকার করতে শুরু করে নিজে জন্ম দেওয়া শিশু হাসানকে। কুমিল্লার মুরাদ নগর থানার টনকি ইউনিয়নের মেয়ে বিলকিস আক্তার।দোয়ারাবাজার উপজেলার বগুলা বাজার ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের আব্দুছ সাত্তারের ছেলে ফারুক মিয়া।তাদের সন্তান হাসানের বয়স আজ প্রায় ১৩ বছর কিন্তু বাবার স্বীকৃতি পাননি এখনও। কিছু দিন আগে হাসান তার বাবার বাড়িতে এলে বাবার সন্তান অস্বিকার ও তার সৎ মায়ের অত্যাচারে অসুস্থ হয়ে নানা বাড়িতে ফিরে যেতে দেখে স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ। এরপর বারবার ফারুক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে পিতা পরিচয় দেওয়ার দাবি জানায় হাসান। কিন্তু তাদের বাড়ি থেকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেন সৎ মা।কোনো ক্রমেই সন্তানকে স্বীকৃতি দিতে রাজি হননি তিনি।

এমতাবস্থায় পিতার পরিচয়ের স্বীকৃতি পেতে সমাজে বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন হাসান। হাসান জানান,জন্মের ১৩ বছরে বাবার তেমন ভালোবাসা পায়নি,বাবার বাড়িতে আসলে এক হাতে থাকতে বলে অন্য হাতে বিদায় সৎ মায়ের অত্যাচার বুকে চাপা রেখে এমন ভাবেই কাটছিলো আমার দিন। কিন্তু বাবা বিদেশ যাওয়ার পর আরও পরিবর্তন হয় তার মনমানসিকতা। দিনদিন বাড়তে থাকে সৎ মায়ের অত্যাচার। বাবার কাছে সন্তান হিসাবে আমার অধিকার পায়নি। আজ আমি নিজ পরিচয় ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমি বাবার পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আপনারা আমাকে বাবার স্বীকৃতি এনে দিন। এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হাসানের সৎ মা রাশিফা বেগম জানান,নির্যাতনের অভিযোগ মিথ্যা, হাসান আমার সৎ ছেলে হলেও আমি তাকে আমার নিজের ছেলের মতো দেখি। হাসানের বাবা ফারুক মিয়া তার ছেলে হাসানের উপর বর্তমান স্ত্রীর নির্যাতন অশ্বিকার করে জানান, ছেলে আমার,আমি সবসময় তার বরণ পোষন করতে রাজি। অতিথেও করেছি আমি চাই সে আমার বাড়িতে থাকুক আমি তাকে লেখাপড়া করাবো।