শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন তার একটি স্বপ্ন আছে। আর, আমি আজ আপনাদের বলতে চাই- বাংলাদেশের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে। তিনি ইংরেজি বলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি’।
(২৫’শে ডিসেম্বর ২০২৫) বৃহস্পতিবার,দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরে প্রথম জনসভাতেই নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমান তার ভাষণে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে একই সূত্রে গেঁথেছেন। আমরা ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছি, আর ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছি। জুলাই বিপ্লবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা গড়ার মাধ্যমেই আমাদের তাঁদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে।
তারেক রহমান তার পরিকল্পনায় কেবল রাজনৈতিক সংস্কার নয়, বরং শক্তিশালী অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা বিএনপির মূল লক্ষ্য। তিনি দেশের যুব ও তরুণ সমাজকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তরুণ প্রজন্মকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ভাষণে তিনি শহীদ ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর হত্যার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেন বলে যোগ করেন তারেক রহমান।
নিজের অনুপস্থিতিতে যারা সীমাহীন জেল-জুলুম সহ্য করে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন, সেই সব ত্যাগী নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ১৭ বছর তিন মাস নির্বাসনে থাকার তারেক রহমান। তিনি বলেন, আপনাদের সমর্থন থাকলে আমার এই পরিকল্পনা অবশ্যই সফল হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার জন্য। এখানে পাহাড় ও সমতল রয়েছে; বাস করে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান। আমরা এমন এক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে একজন নারী, পুরুষ বা শিশু নির্ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারবে এবং নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।
বিবিসি-রয়টার্স-নিউ ইয়র্ক টাইমস-আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী।
সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই ভাষণ শেষে ৩০০ ফিটের গণসংবর্ধনার মঞ্চ থেকে তারেক রহমান সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি তার গুরুতর অসুস্থ মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর, মায়ের সঙ্গে দেখা করে অবশেষে গুলশানের বাসভবনে পৌঁছান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাত সাড়ে ৮:টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গুলশানে পৌঁছান তিনি। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী ‘স্বাগতম তারেক রহমান’ ধ্বনিতে এলাকা মুখরিত করে তোলেন।