আশিকুর রহমান সবুজ
গাজীপুর জেলা ও সদর উপজেলা মহিলা দলের কমিটি গঠন ও পদায়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ‘পদ বাণিজ্যের’ অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। ত্যাগী ও সক্রিয় কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে অযোগ্যদের পদে বসানোর যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন নেত্রী নাছিমা আক্তার।
দীর্ঘদিন ধরেই গাজীপুর সদর উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। স্থানীয় কয়েকজন নেত্রীর দাবি, যোগ্যতাকে প্রধান্য না দিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদ বণ্টন করা হচ্ছে। এই অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে সদর উপজেলার সাংগঠনিক চেইন-অব-কমান্ডে অস্থিরতা দেখা দেয়।
এই বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নাছিমা আক্তার বলেন, “পদ বাণিজ্যের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। এখানে পদ নিতে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয় না এবং হওয়ার সুযোগও নেই।”
জান্নাতুল ফেরদৌসির পদায়ন বা সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “দলের উন্নয়নের স্বার্থে এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে বর্তমান অবস্থানে আনা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফেরদৌসি অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। তিনি সম্ভবত প্রতিপক্ষের উসকানিতে প্ররোচিত হয়ে ভুল অভিযোগ তুলেছেন।”
নাছিমা আক্তার আরও দাবি করেন যে, সদর উপজেলাসহ পুরো জেলাকে সুসংগঠিত করার জন্য গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কমিটি সাজানো হচ্ছে। এতে যারা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে পারছে না, তারাই এখন মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
গাজীপুর সদর উপজেলার তৃণমূল কর্মীরা মনে করছেন, দলের উচ্চপর্যায় থেকে দ্রুত এই বিতর্কের অবসান ঘটানো প্রয়োজন। অন্যথায়, সদর উপজেলায় আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।