আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুর: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও গাজীপুর সদরের আংশিক) আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। তবে বিভিন্ন দলীয় প্রতীক থাকলেও সাধারণ ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি ইজাদুর রহমান মিলন। তার নির্বাচনী প্রতীক ‘ঘোড়া’র পক্ষে মাঠে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তাতে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা।
ইজাদুর রহমান মিলন এই আসনের একজন পরীক্ষিত নেতা। দীর্ঘ ১১ বছর বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং টানা ৭ বছর গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুবাদে পুরো নির্বাচনী এলাকায় তার এক বিশাল ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক রয়েছে। ভোটারদের মতে, দলীয় মারপ্যাঁচের চেয়ে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবায় যার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে, তাকেই এবার সংসদে পাঠাতে চান তারা।
ভবানপুর মুক্তিযোদ্ধা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অসামান্য অবদান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার কঠোর অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরে তার ব্যক্তিগত অনুদান ও সক্রিয় অংশগ্রহণ এই আসনের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের ভোটারদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে সরাসরি অংশ না নিলেও দলটির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংকের একটি বিশাল অংশ এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলনের দিকে ঝুঁকছে। পাশাপাশি বিএনপির একাংশের কোন্দল এবং জোটগত রাজনীতির জটিলতায় বিরক্ত সাধারণ ভোটাররা একজন ‘ভূমিপুত্র’ এবং কাছের মানুষ হিসেবে ইজাদুর রহমান মিলনকেই ভরসা করছেন।
শ্রীপুর ও গাজীপুর সদরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই ঘোড়া মার্কার সমর্থনে স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল ও গণসংযোগ চলছে। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, “আমরা এমন একজনকে প্রতিনিধি হিসেবে চাই, যাকে বিপদে-আপদে সবসময় কাছে পাওয়া যায়। মিলন ভাই দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমাদের পাশে আছেন, তাই এবার তাকেই আমরা ভোট দেব।”
নির্বাচনী মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নীরব সমর্থনের যে জোয়ার দেখা যাচ্ছে, তাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান মিলন একটি বড় ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।