শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
‎২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শ্রীপুর পৌর ৬নং ওয়ার্ডবাসীকে মেহেদী হাসান সরকারের শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা গাজীপুরে যুবসমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে দরিদ্রদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে শ্রীপুরবাসীকে এমপি বাচ্চুর পক্ষ থেকে আবু বকর সিদ্দিকের শুভেচ্ছা কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে প্রমোদতরি ‘মাস্তুল’ ঘিরে নদী পর্যটনের সম্ভাবনার যাত্রা শুরু চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে পরিকল্পিত খুন! মনিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা রহস্য উন্মোচন মহিপুর বাজারে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত হার্ডিঞ্জ ব্রীজের ওয়ারেন্টি ও গ্যারেন্টি শেষ তবুও দাঁড়িয়ে আছে দিব্যি  শ্রীপুরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার শ্রীপুর পৌর এলাকায় কৃষকের স্বপ্ন চুরমার: এক বিঘা শসা ক্ষেত কেটে সাবাড় করল ‘কিশোর গ্যাং’ স্বাস্থ্যসেবায় নতুন গতি,কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবাগত চিকিৎসকদের যোগদান

ঘুষের টেবিলে বন্দি অভয়নগর ভূমি অফিস ! নামজারি থেকে খাসজমি বন্দোবস্ত—টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল, দালাল-কর্মকর্তার যোগসাজশে সাধারণ মানুষ জিম্মি

কামাল হোসেন অভয়নগর বিশেষ প্রতিনিধি / ১১ টাইম ভিউ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি

 

যশোরের অভয়নগর উপজেলা-র ভূমি অফিসগুলো এখন জনসেবার কেন্দ্র নয়, বরং ঘুষ বাণিজ্যের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে, এমন বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় স্থানীয় জনপদ। নামজারি (মিউটেশন), খতিয়ান সংশোধন, পর্চা উত্তোলন কিংবা সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত, প্রতিটি ধাপে অনিয়ম, দালালি ও প্রকাশ্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না, এ যেন অলিখিত নিয়ম।

সরকারি নির্ধারিত ফি কয়েক হাজার টাকা হলেও বাস্তবে নামজারির জন্য আদায় করা হচ্ছে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত, এমন অভিযোগ একাধিক ভুক্তভোগীর। দালাল ছাড়া সরাসরি আবেদন করলে ফাইল পড়ে থাকে মাসের পর মাস। কখনো ‘সার্ভেয়ার নেই, কখনো ‘তদন্ত বাকি, অজুহাতের শেষ নেই। এক সেবাপ্রার্থী ক্ষোভে বলেন, সরকারি অফিসে গিয়েও দালালের কাছে যেতে হয়। টাকা দিলেই সব ঠিক, না দিলে ফাইল গায়েব।

ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দযোগ্য সরকারি খাসজমি নিয়েও চলছে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ। প্রকৃত ভূমিহীনরা বছরের পর বছর আবেদন করেও জমি পান না। অথচ রাজনৈতিক প্রভাব ও টাকার জোরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি একাধিক প্লট দখলে নিচ্ছেন, এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত রিপোর্টে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব,যোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে অযোগ্যদের অন্তর্ভুক্তি,মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ফাইল অনুমোদন ‌

অভয়নগর উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে সক্রিয় একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। তারা প্রকাশ্যেই সেবাপ্রার্থীদের ঘিরে ধরে দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে এই চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি।দালালদের দৌরাত্ম্যে অনেকে সরাসরি অফিসে কথা বলতে সাহস পান না। সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে বেশিরভাগ মানুষ মুখ খুলতে চান না।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ভূমি অফিসে অনিয়মের কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগ দিলে আদৌ কি প্রতিকার মেলে?

ভূমি সংক্রান্ত সেবা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অথচ সেই সেবাই যদি ঘুষ-দালালির ফাঁদে আটকে যায়, তবে সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা কোথায়?

অভয়নগরের ভূমি অফিসে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ এখন জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, দালালমুক্ত পরিবেশ এবং জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নির্ধারিত ফি তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন,অনলাইন সেবা কার্যকর ও স্বচ্ছ করা,দালাল চক্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অভিযান,দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি,অভয়নগরের মানুষ এখন উত্তর চায়, জনসেবার অফিস কি ঘুষের আখড়াই হয়ে থাকবে, নাকি ফিরবে সুশাসন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর