আশিকুর রহমান সবুজ
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁতী দল নেতা সোহেল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
ঘটনাটি ঘটে টঙ্গীর দেওড়া এলাকার তালিমুস সুন্নাহ বালিকা মাদ্রাসায়। গত ১০ জানুয়ারি মাদ্রাসাটির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সোহানাকে (১১) পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীর বাবা মানিক মিয়া সাংবাদিকদের বিষয়টি জানালে প্রায় ২০ জন সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ পৌঁছায়। তবে সন্ধ্যায় সোহেল সিদ্দিকী একদল অনুসারী নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্তব্যরত এএসআই রোকনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি তাঁতী দলের নেতা সোহেল সিদ্দিকী বলছি, আপনারা চলে যান—আমি বিষয়টি দেখছি।” প্রশাসনের ওপর এমন খবরদারি দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের এড়িয়ে ভুক্তভোগীর বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়। এসময় বঙ্গ টেলিভিশনের সাংবাদিক শামিমা খানমসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সোহেল সিদ্দিকী ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে তাদের হেনস্তা করেন।
স্থানীয়রা জানান, সোহেল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে জমি দখল ও সাংবাদিক ক্লাব ভাঙচুরসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় টঙ্গীর সাংবাদিক মহল তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।