মাহমুদুল হাসান চন্দন
এলপিজি ও নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট কমানো এবং সরকার কর্তৃক দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি নেই। খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দাম, ডিলারদের কারসাজি এবং আইন বাস্তবায়নে গাফিলতির কারণে ভোক্তারা সুফল পাচ্ছেন না। এলপিজি সিলিন্ডারসহ অনেক পণ্যে সরকার ভ্যাট কমিয়েও বাজারে দাম চড়া।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর থেকে ভ্যাট কমানো হলেও সাধারণ ক্রেতারা এর সুফল পাচ্ছেন না। ভেড়ামারায় এখনো বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারিভাবে ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হলেও সেই দাম মানা হচ্ছে না। অনেক দোকানিরা পরিবহন খরচ বা সরবরাহে সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। এতে মাসের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
কাঠের পুলের বাসিন্দা রবিউল বলেন, সিলিন্ডার আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। কিনতে গেলে তো কম দামে পাই না। দুদিন আগেও ১ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। শুধু শুনি দাম কমেছে, কিন্তু কিনতে গেলেই বেশি দাম রাখে।
কাচারি পাড়ার বাসিন্দা নুরজাজান বেগম বলেন, সরকারি রেটের চাইতে বেশি দাম দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এগুলো দেখার কি কেউ নেই? এমনিতেই সংসারের খরচ বেশি, তারপর সিলিন্ডার কিনতে হয় বেশি দামে।
গ্যাসের ওপর ভ্যাট হ্রাসবাজার স্থিতিশীল এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি রাখতে সরকার এলপি গ্যাসের ওপর সামগ্রিক ভ্যাট হ্রাস করে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এতে বলা হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থায় এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রযোজ্য ছিল এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ অগ্রিম কর (এটি) পরিশোধ করতে হতো।
শিল্পকারখানা ও গৃহস্থলি- উভয় ক্ষেত্রেই এলপিজিকে একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে জনস্বার্থে কর কাঠামো যৌক্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এলপিজির আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এটা কার্যকর থাকবে।
এই পুনর্বিন্যাসের ফলে আমদানির পর স্থানীয় উৎপাদন ও বিতরণ পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের ওপর আর কোনো ভ্যাট প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার ভ্যাট আরোপের পরিবর্তে এখন কেবল আমদানি পর্যায়েই একবার কর আদায় করা হবে।
এনবিআর জানিয়েছিল, প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে আগের কাঠামোর তুলনায় ভোক্তাদের ওপর সামগ্রিক ভ্যাটের চাপ প্রায় ২০ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বাড়তি দাম দিয়েই ভোক্তাদের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।