মোঃ রুমি শরীফ বিশেষ প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর মহিপুর তহসীল অফিসের সামনে ১নং খাস জমিতে অবৈধভাবে প্রায় ৩০টি দোকান নির্মাণ করে রমরমা বাণিজ্য চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি এই মূল্যবান জমি দখল করে দোকান স্থাপন করে মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাস জমিতে নির্মিত এসব দোকান তৈরির পর প্রতিটি দোকান থেকে তহসিলদার মাসিক প্রায় ২ হাজার টাকা করে আদায় করেন। অন্যদিকে দোকানের মালিকরা সেই দোকানগুলো আবার ভাড়া দেন মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায়। ফলে একটি দোকান ঘিরেই বহুস্তরীয় অর্থ আদায়ের এক ধরনের অবৈধ বাণিজ্য গড়ে উঠেছে।
এভাবে প্রায় ৩০টি দোকান থেকে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন “প্রটোকল খরচের” অজুহাতে ব্যয় করা হয় বলে দাবি করা হয়। তবে এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তহসীল অফিসের সামনে সরকারি খাস জমি হওয়া সত্ত্বেও সেখানে দিনের পর দিন অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।ফলে একদিকে সরকারি সম্পদ বেহাত হচ্ছে, অন্যদিকে কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে গড়ে উঠছে অবৈধ অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্র।
এলাকাবাসী আরও জানান, খাস জমি দখল করে দোকান বসানোর কারণে আশপাশের পরিবেশ ও চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তহসীল অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকেও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সচেতন মহল বলছে, খাস জমি রাষ্ট্রের সম্পদ, যা জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের কথা। কিন্তু সেই জমি যদি অবৈধভাবে দখল করে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা আইনের পরিপন্থী এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।তাদের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি।
এলাকাবাসী দাবি করেছেন, খাস জমিতে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ দোকান দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে এবং যারা এই বাণিজ্যের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন সরকারি জমি এভাবে দখল করে কেউ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপই পারে মহিপুরের এই খাস জমি দখল ও অবৈধ দোকান বাণিজ্যের অবসান ঘটাতে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।