আশিকুর রহমান সবুজ, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পৌরসভার উজিলাব (৬নং ওয়ার্ড) এলাকায় কৃষক মোঃ মোবারক হোসেনের (মোবা) প্রায় এক বিঘা জমির ফলন্ত শসা ক্ষেত ধ্বংস করায় ওই কৃষক এখন দিশেহারা। ভুক্তভোগীর দাবি, স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাং চক্র এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোবারক হোসেন জানান, তার শসা ক্ষেতের পাশেই একটি খেলার মাঠ রয়েছে। সেখানে এলাকার কিছু কিশোর নিয়মিত আড্ডা দেয় ও খেলাধুলা করে। গত দুই দিন আগে খেলার বল বারবার শসা ক্ষেতের ভেতরে পড়লে গাছের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় মোবারক হোসেন তাদের নিষেধ করেন। এতে ওই কিশোররা তার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয় এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করে।
ধারণা করা হচ্ছে, সেই রাগের জেরে গত রাতে দুর্বৃত্তরা তার পুরো এক বিঘা জমির শসা গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে ফেলে রেখে যায়। এতে ওই কৃষকের প্রায় লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সকালে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কৃষক ক্ষেতে গিয়ে দেখেন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সব গাছ মাটিতে নুইয়ে মরে আছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পাশের খেলার মাঠে অসংখ্য শসার খোসা এবং অর্ধেক খাওয়া শসা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া মাঠের পাশে একটি গাছের ওপরে বাঁশ দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী মাচাতেও অর্ধেক খাওয়া শসা পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয়দের ধারণা, গাছগুলো কাটার পর অপরাধীরা সেখানে বসে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দিয়েছে এবং শসা খেয়ে উল্লাস করেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক মোবারক হোসেন বলেন, “আমি অনেক ধারদেনা করে এই শসা চাষ করেছিলাম। গাছগুলো মাত্র ফল দিতে শুরু করেছিল। শুধু বল ফেলতে নিষেধ করায় ওরা আমার এত বড় সর্বনাশ করবে তা ভাবতেও পারিনি। আমি পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।”
শ্রীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত চরম আকার ধারণ করেছে। সামান্য প্রতিবাদ করলেই তারা সাধারণ মানুষের জানমালের ওপর চড়াও হয়। একজন মেহনতি কৃষকের ফসলের ওপর এমন হামলায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য শ্রীপুর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।