শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
রহনপুরে ঘাসফড়িং ক্যাডেট স্কুলে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল বিএমইউজের রংপুর বিভাগীয় কমিটির দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত গাজীপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটায় ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও কারাদণ্ড  রংপুর বিভাগের সাংবাদিক ও মেধাবী সন্তানের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ রাজশাহীর ২৭ নং ওয়ার্ড যুবদলের উদ্যেগে দোয়া ও ইফতার বিতরণ  কাশিমপুর নামা বাজারে বর্জ্য পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন ভেড়ামারায় এলপি গ্যাসে ভ্যাট কমানোর সুফল নেই বিক্রি বাড়তি দামেই ভেড়ামারায় জ্যেষ্ঠ নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ উচ্চ শিক্ষায় জ্ঞানচর্চার বর্তমান বাস্তবতা: প্রফেসর ড. মো: আবু তালেব  কাশিমপুর কারাগার থেকে কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর 

স্বামীর গচ্ছিত টাকা ফেরত দিতে কিডনি বিক্রির আকুতি, পাশে দাঁড়ালেন ডাঃ মোতাসিম বিল্লাহ আলম 

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৩ টাইম ভিউ
আপডেট : শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

সংসারের অভাব আর স্বামীর আমানত রক্ষা করতে না পারার গ্লানি থেকে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন অসহায় এক নারী (ছদ্মনাম রিয়া আক্তার)। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি দেখা পান একজন মানবিক চিকিৎসকের, যিনি কিডনি কেনার বদলে মমতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ওই নারীর মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় সেলিম জেনারেল ডায়াগনস্টিক হাসপাতাল , ডা. মোতাসিম বিল্লাহ আলমের চেম্বারে।

 

রিয়া আক্তার (ছদ্মনাম) একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। স্বামীর রাখা ৩০ হাজার টাকা মূলধন করে পরিচিতদের মধ্যে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরিচিতজনরা বাকিতে কাপড় নিয়ে টাকা পরিশোধ না করায় তিনি মূলধন হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। এদিকে স্বামী সেই গচ্ছিত টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে ব্যর্থ হন রিয়া। এই নিয়ে শুরু হয় পারিবারিক কলহ, যা শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) পর্যন্ত গড়ায়। এক সন্তানের জননী রিয়া তার স্বামীর আমানত রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে নিজের কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

 

নিজের উদ্দেশ্য সফল করতে রিয়া আক্তার যান ডা. মোতাসিম বিল্লাহ আলমের কাছে। পরামর্শ চলাকালীন হঠাৎ তিনি বলে ওঠেন, “ডাক্তার সাহেব, আমি আমার কিডনি বিক্রি করতে চাই।” এমন প্রস্তাবে বিস্মিত হয়ে ডাক্তার মোতাসিম বিল্লাহ প্রায় এক ঘণ্টা সময় নিয়ে বিস্তারিত শোনেন এবং রিয়া আক্তারের অসহায়ত্বের বিষয়টি যাচাই করেন।

রিয়ার করুণ কাহিনী শুনে বিচলিত হয়ে চিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা করে নগদ ২০ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন। এছাড়া আরও ১০ হাজার টাকা সাহায্যের ব্যবস্থা করেন তিনি। শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, রিয়া আক্তার যাতে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেজন্য একটি কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করে দেন এই চিকিৎসক।

 

ডা. মোতাসিম বিল্লাহ আলমের এই মহানুভবতায় রিয়া আক্তার এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। স্বামীর টাকা ফেরত দেওয়ার পথ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য একটি কাজের নিশ্চয়তা পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ডা. মোতাসিম বিল্লাহর প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা। সাধারণ মানুষের মতে, সমাজে এমন মানবিক চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়লে অসহায় মানুষদের আর আত্মঘাতী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর