আলমগীর হোসেন
বান্দরবান জেলা পরিষদ কর্তৃক ইজারা কৃত নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের টিভি টাওয়ার সংলগ্ন অস্থায়ী পশুর হাট সংক্রান্ত একটি দল ঘুমধুমে এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য নাসির উদ্দিন ও জেলা কানুনগো।মংসৈচিং।২৫ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে জেলা পরিষদের তদন্ত দল টিভি টাওয়ারের বিপরীতে ঘুমধুমের রাবার বাগান লাগোয়া অস্থায়ী কোরবানীর পশুর হাটের জায়গায় এসে পৌছেন।এ সময় তদন্ত দলের প্রধান জেলা পরিষদ সদস্য নাসির উদ্দিন জেলার সরকারী কানুনগো মংসৈচিং’কে নিয়ে ঘুমধুমের রাবার বাগান লাগোয়া কোরবানীর অস্থায়ী পশুর হাটের জায়গা পরিদর্শন করে স্থানীয় বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলেন।এছাড়াও ঘুমধুম রাবার বাগানস্থ অস্থায়ী পশু বাজার ইজারাদার ও তুমব্রু বাজারের ইজারাদারদের সাথে কথা বলেন এবং তুমব্রু বাজারেও যান।
স্থানীয় যুবদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তুমব্রু বাজার থেকে ঘুমধুম টিভি টাওয়ার রাবার বাগান অস্থায়ী পশু বাজারের দূরত্ব প্রায় ৪ কিলোমিটার।টিভি টাওয়ার সংলগ্ন ঘুমধুমের রাবার বাগান পশুর হাট ভোক্তা সাধারণের জন্য উপযুক্ত স্থান।ইজারাদারের নিজস্ব জায়গার উপর এই বাজার প্রতি কোরবান ঈদের মৌসুমে অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে বসে।এখানে কোন প্রকার আইনশৃঙ্খলা অবনতি হয় এমন ঘটনা ঘটেনা।এটি পশু ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য নিরাপদ জায়গা।আর তুমব্রু বাজার মিয়ানমার লাগোয়া সীমানা বাজার।মিয়ানমার অভ্যন্তরে সংঘাত লেগেই আছে।মিয়ানমারে কোন অঘটন ঘটলেই তুমব্রু গ্রামের মানুষ আতংকে থাকেন।যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলেও পশু ক্রেতারা ঝুঁকি তুমব্রু আসতে চান না।
মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আসা পশুর উপর ভরসা করে তুমব্রুতে পশুর বাজার বসাতে কিছু চোরাকারবারি তৎপর হয়ে উঠেছেন।তুমব্রুতে পশুর বাজার বসার মত উপযুক্ত জায়গাও নেই।
কিন্তু ঘুমধুমের রাবার বাগান লাগোয়া অস্থায়ী পশুর বাজারটি নিরিবিলি পরিবেশে স্থীত ইজারাদারের নিজস্ব উপযুক্ত জায়গা রয়েছে।
তুমব্রু বাজার ও ঘুমধুম রাবার বাগান পশুর বাজারের দুরত্ব ৪ কিলোমিটার। এটি সাংঘর্ষিক নয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদূর রহিম ভুট্রো বলেন,ঘুমধুম রাবার বাগান লাগোয়া অস্থায়ী পশুর বাজারটি এলাকার লোকজন ছাড়াও ক্রেতা-বিক্রেতা সবার জন্য নিরাপদ। এই বাজারটি প্রতি বছর কোরবানীর ঈদের মৌসুমে অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে বসে।এই বাজার ঘিরে কোরবানের সময় অন্তত কয়েক সহশ্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।অনুরুপ বক্তব্য শত-শত পেশার মানুষের।
স্থানীয় সংবাদকর্মী নুর মোহাম্মদ শিকদার,আজিজুল হক ও মাহমুদুল হাসান, বলেন,ঘুমধুম রাবার বাগান সংলগ্ন কোরবানীর অস্থায়ী পশুর হাটটি শুধু ঈদের দিনের আগে কয়েকদিন বসে।এটি অন্যান্য পশু বাজারের চেয়ে অনেকটা নিরাপদ। এখানে ক্রেতা-বিক্রেতারা উভয়েই স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।এটি বৃহত্তর ঘুমধুম বাসীর জন্য নিরাপদ। এখন বাজারটি বন্ধ করার জন্য পায়ঁতারা চালাচ্ছে গুটিকয়েক বিচ্ছিন্ন মানুষ।ঘুমধুম ইউনিয়ন বাসী এই বাজারের পক্ষে।
তুমব্রু বাজার এবং ঘুমধুম রাবার বাগানস্থ কোরবানীর অস্থায়ী পশুর বাজারের দূরত্ব প্রায় ৪ কিলোমিটার।সার্বিক বিবেচনায় এই বাজারই মানুষের জন্য নিরাপদ এবং ভালো।
তদন্ত দল টিভি টাওয়ার সংলগ্ন ঘুমধুম রাবার বাগানস্থ কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটের জায়গা পরিদর্শন করেন,এলাকার বিভিন্ন পেশার মানুষের বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি দেখেন।তদন্ত দল বলেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের জনৈক নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তুমব্রু বাজারের ইজারাদার দাবী করে ঘুমধুম রাবার বাগানস্থ কোরবানির অস্থায়ী পশু হাটের কারণের দুই বাজারই সাংঘর্ষিক দাবী করে জেলা পরিষদে একটি আবেদন করেছেন।তার প্রেক্ষিতে তদন্তে আসা।আমরা যা দেখেছি,যা শুনেছি এবং দুই বাজারের দূরত্ব কতটুকু তা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেবো।বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইজারা বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এ সময় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবসার সোহেল,ঘুমধুম ইউনিয়ন বিএনপি’র আহবায়ক আবদুল করিম মেম্বার,সদস্য সচিব খাইরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আবদূর রহিম ভুট্রো, যুবদল নেতা জাহিদ আলম, ইয়াহিয়া গার্ডেনের ম্যানেজার এম.ছৈয়দ আলম সহ স্থানীয় সংবাদকর্মী, বাজার ইজারাদার ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।